নগরায়ন আর সচেতনতার অভাবে আজ বিলুপ্তির পথে দেশের পাখ-পাখালী। সারস-জাতীয় শামুকখোল পাখি এর একটি। তবে আশার কথা, জয়পুরহাটের কানাইপুকুর এখন শামুকখোল পাখির অভয়ারণ্য। গ্রামটিতে বাস করছে বিপন্ন প্রজাতীর এ পাখি। স্থানীয়দের ভালবাসায় দিন দিন বাড়ছে এ পাখির সংখ্যা।
পৃথিবীতে দুই প্রজাতির শামুকখোল পাখি রয়েছে। একটি এশীয় অন্যটি আফ্রিকান। অদ্ভুত ঠোঁটের জন্য খুব সহজে অন্যান্য পাখি থেকে একে আলাদা করা যায়। আফ্রিকান বা কালো শামুকখোল আফ্রিকার বেশিরভাগ অঞ্চলের স্থায়ী পাখি। এশীয় শামুকখোল বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। সাদা বর্ণের পাখির পিঠ ও ডানার অংশ কালো।
বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। উপযুক্ত আবহাওয়া, পরিমিত খাবারের যোগান আর নিরাপত্তা থাকলে এরা সাধারণত কোন এক জায়গা থেকে নড়ে না। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিভৃত গ্রাম কানাইপুকুরে প্রকৃতির অপরূপ খেয়ালে বাসা বেধেছে হাজার হাজার শামুকখোল পাখি।
গ্রামের মানুষের পাখি প্রীতি আর নিরাপত্তা পেয়ে শামুকখোল পাখি নিশ্চিন্তে বংশ বিস্তার করছে। দিন দিন এখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই পাখির সংখ্যা।
নিরাপত্তার পাশাপাশি পাখির এই আবাসস্থলকে সরকারীভাবে সংরক্ষণের দাবি পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর।
এই পাখিগুলো অঞ্চলভেদে শামুকখোল, শামুকভাঙ্গা, শামখোল ও হাইতোলা মুখ নামে পরিচিত।
Comments