উৎসবের আবহাওয়ায় পাহাড়ে মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরির মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে মহাসমারোহে আয়োজিত হল বিশ্বকর্মা পুজো। ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অংশ এই ন্যারোগেজ রেলওয়ে বহু দশক ধরে পাহাড়ের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে । প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ডিএইচআরের শিলিগুড়ি লোকোশেড, কার্শিয়াং ও দার্জিলিং ওয়ার্কশপ, মিউজিয়াম-সহ বিভিন্ন বিভাগে অত্যন্ত উদ্দীপনা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যে 801A, 803B-এর মতো বহু পুরনো শতাব্দী প্রাচীন হেরিটেজ টয়ট্রেনের স্টিম ও ডিজেল ইঞ্জিনগুলোকে ফুল, মালা এবং নানাবিধ আলো দিয়ে সাজিয়ে বিশেষ পুজো দেওয়া হয়। পাহাড়ি রেলের মসৃণ যাতায়াত এবং সমস্ত কর্মচারী ও যাত্রীদের সুরক্ষার প্রার্থনা জানিয়ে বিশ্বকর্মা বাবার চরণে অঞ্জলি দেন রেল কর্মীবৃন্দ।দীর্ঘ 33 বছর ধরে এই রেল বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসা লোকো পাইলট রঞ্জিৎ কুমার গোস্বামী উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানান, 1993 সাল থেকে শিলিগুড়ি সেকশনে লোকো পাইলট হিসেবে কাজ করা তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। পাহাড়ি এই সেকশনের সৌন্দর্য এবং টয়ট্রেনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা সত্যি বলে বোঝানো যায় না। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে আগামী 1 অক্টোবর থেকে কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত সকাল ও বিকেলে দু'টি নতুন ট্রেন সার্ভিস (একটি স্টিম ও একটি ডিজেল ভিত্তিক) চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দার্জিলিং-ঘুম জয়রাইডে আরও 5টি অতিরিক্ত সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কোচগুলির রিফার্বিশমেন্ট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটকদের সেরা অভিজ্ঞতা দিতে রেল প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
Comments