সুন্দরবন ঘুরতে এসে পর্যটকদের চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা ৷ সুন্দরবনের পীরখালি 1 নম্বর জঙ্গলে কলকাতা থেকে বেড়াতে আসা 12 সদস্যের এক পর্যটক দল একসঙ্গে তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দর্শন পেল। 'চোখ ধাঁধানো' দৃশ্য় দেখে পর্যটকদের মধ্যে রোমাঞ্চ এবং আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয় ৷ পর্যটকরা জানান, নদীর দিকে তাকাতেই হঠাৎ নজরে আসে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও তার সঙ্গে দুই শাবক ৷ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নদী সাঁতরে অন্য জঙ্গলে যাচ্ছিল। পর্যটকরা ক্যামেরায় সেই দৃশ্য বন্দি করেন। বাঘটি নদীর ধারে এসে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ায়, আশেপাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং তারপর দুই শাবককে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে নদীতে নামে। নদী পার হওয়ার সময় তার সাবলীল এবং শক্তিশালী ভঙ্গি পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন মনে হয়।পর্যটকরা জানান, পুরো দৃশ্যটি কয়েক মিনিটের ৷ এটা আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। অনেকে বলেন, "এমন সুন্দর এবং বিরল অভিজ্ঞতা জীবনে খুব কমই ঘটে। বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীর এই কর্মকাণ্ড পর্যটকদের জন্য এক অনন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতাও বটে।"জেলার মুখ্য বন আধিকারিক (DFO) নিশা গোস্বামী জানান, পীরখালি এলাকা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য পরিচিত । জোয়ার-ভাটার সময় বাঘেরা এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাওয়ার জন্য নদী পারাপার করে থাকে ৷ তবে একসঙ্গে বাঘিনী এবং তার দুই শাবকের দর্শন বিরল ঘটনা এবং বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এই ধরনের দৃশ্য পর্যটকরা খুব কমই প্রত্যক্ষ করতে পারেন।"পর্যটকদের রোমাঞ্চের পাশাপাশি এই অভিজ্ঞতা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর আচরণ সম্পর্কে আরও ধারণা দেয়। বনাঞ্চলের প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা আশা করছেন, এমন দৃশ্য ভ্রমণ আকর্ষণকে আরও বাড়াবে। শীতকালে সুন্দরবনে ভ্রমণকারী পর্যটকরা বাঘের বিচরণ, নদীপথ পারাপার এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখার সুযোগ পাবেন।পর্যটকরা বলেন, "বাঘের সঙ্গে এমন কাছের অভিজ্ঞতা আমাদের ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। সুন্দরবনের এ ধরনের বিরল অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যটন এবং বন সংরক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আনন্দিত ৷ কারণ বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ অনুভব করতে পেরেছেন।"
Comments